সিদ্দিকুর-ফাহাদ ছিলেন উজ্জল

ডিসেম্বর ২৯, ২০১৩ ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

২০১৩ সালে ফুটবলারদের মতো অন্য ক্রীড়া ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা ব্যর্থ থাকলেও উজ্জ্বল ছিলেন দেশের কৃতি গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও সর্ব কনিষ্ট ফিদে মাস্টার দাবাড়– মো. ফাহাদ রহমান।
গলফের সাফল্য ছিলো উল্লেখ করার মতো। এই বছর দেশের কৃতি গলফার সিদ্দিকুর রহমান একমাত্র ক্রীড়াবিদ, যিনি একাই জাতিকে নিয়ে গেছেন উচ্চ শিখরে। চলতি বছর লাল-সবুজের পতাকা আবারও আন্তজার্তিক ক্রীড়া অঙ্গনে মেলে ধরেন সিদ্দিকুর, এশিয়ান ট্যুরে দ্বিতীয় শিরোপা দিল্লী ওপেন জয় করে। দিল্লী ওপেন জেতার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম গলফার হিসেবে গলফ বিশ্বকাপ গলফে জাতীয় পতাকা উড়ান সিদ্দিকুর। তিনি ছাড়াও বাংলাদেশের ক্ষুদে দাবাড়– মো. ফাহাদ রহমান দেশের মান বাড়িয়েছেন। ফাহাদ চলতি বছরের জুন মাসে থাইল্যান্ডের চিয়ান মাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৪ তম আশিয়ান এইজ গ্রুপে (অনুর্ধ্ব-১০ বয়স বিভাগ) চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের সর্ব কনিষ্ট ফিদে মাস্টারের খেতাব জেতেন।
গলফে ধারাবাহিক সফলতা আসলেও  ২০১২ সালে আশার আলো দেখানো হকি ব্যর্থ হয়েছে নানাভাবে। এশিয়া কাপ হকিতে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে জিমি, রানারা আজ দেশ ছাড়া। নানা বির্তকিত কর্মকান্ডের কারনে স্থবির হকি ফেডারেশনও। বেশ কয়েকটি আন্তজার্তিক আসরে অংশ নিলেও  সফলতা নেই শ্যূটিং, আরচ্যারি, সাঁতার, ্অ্যাথলেটিক্স, দাবায়। জাতীয় খেলা কাবাডিতো বিলীন হওয়ার অবস্থায়। আন্তজার্তিক কাবাডিতে বাংলাদেশ পুরুষ দল সর্বশেষ খেলেছে তিন বছর আগে, গুয়াংজু এশিয়াডে। আর মহিলা কাবাডি দল গত বছর চীনের হাইয়ানে অংশ নেয় এশিয়ান বিচ গেমসে। এরপর আর কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেনি বাংলাদেশ। শুধু তা-ই নয়, অংশ নেয়ার আগ্রহই  নেই কাবাডি ফেডারেশনের। এমনকি আগামী বছর এশিয়ান গেমসেও কাবাডিকে অন্তভূক্ত করেনি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। এতোসব ব্যর্থতার মাঝেও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সফলতা হচ্ছে বাংলাদেশ গেমসের চাকা সচল করা। সৈয়দ শাহেদ রেজার নতুন কমিটি আর কিছু না পারলেও দশ বছর পর মাঠে গড়িয়েছেন বাংলাদেশ গেমসের ১০ আসরের।

পুরো ২০১২ সালে একের পর এক চমক দেখিয়েছে হকি। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নিয়ে মৃত হকিতে জাগিয়ে তুলেছিলেন খাজা রহমতউল্লাহ। তার অধীনে এএইচএফ কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। অপরাজিত শিরোপা জিতেছিলো ওয়ার্ল্ড হকি লীগের প্রথম পর্বের। দ্বিতীয় পর্বেও চীনকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলো জিমিÑচয়নরা। এরই শুরু হয় হকিতে অশান্তি। দল বদলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে হকি খেলোয়াড়রা। অপরদিকে নির্বাচন নিয়ে কাদাছোড়া ছুড়ি শুরু করেন কর্মকর্তারা।   খেলোয়াড়রা দুটি ভাবে বিভক্ত হয়ে পরেন। এক প্যানেলের উস্কানিতে কয়েকদফা জাতীয় দলের ক্যাম্পও বর্জন করেন তারা। তারাই জাতিকে ডুবান এশিয়াকাপ হকিতে। ওমানের কাছে হেরে আট দলের মধ্যে সপ্তম হয়ে নানা বির্তকের জন্ম দেন জাতীয় দলের চার খেলোয়াড় রাসেল মাহামুদ জিমি, ইমরান আহাম্মেদ পিন্টু, কামরুজ্জামান রানা ও জাহিদ হোসেন। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো ওমানে লীগ খেলার প্রস্তাব পেয়ে তারা ম্যাচ ছেড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে হকি ফেডারেশন। তদন্তে দোষী প্রমানিত হয়ে এই চার খেলোয়াড় তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন হকির সকল কর্মকান্ড থেকে। বছরের শেষ দিকে নিষিদ্ধ হয়েও ওমানে খেলতে গিয়ে নতুন বির্তকের জন্মদেন জিমি ও রানা। সরকারের পছন্দে নির্বাচিত হয়েও ফেডারেশনে স্বস্তিতে নেই খাজা রহমতউল্লাহও। সরকারের আর্শিবাদ থাকায় খাজা রহমতউল্লাহর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেননি মোহামেডানের শফিউল্লাহ আল মুনীর। তাই তার পুরো প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। তারই ধারাবাহিকতায় খাজা রহমতউল্লাহর অধীনে কোনো কর্মকান্ডে নেই মোহামেডান মেরিনার্সসহ চারটি ক্লাব। যে কারনে কয়েকদফা পিছিয়েছে হকির দল বদল। শেষ পর্যন্ত ওই চারটি দল না আশায় সাত দল নিয়ে দল বদল সম্পন্ন করে ফেডারেশন। প্রথমবারের মতো দুই পরাশক্তি মেরিনার্স মোহামেডানকে ছাড়াই লীগ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয় তারা। ফেডারেশনের অন্তকোলহে হকির মতো অবস্থা বেশ কয়েকটি ফেডারেশনে। জুনের মাঝামাঝি সময় থেকেই নেই বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস। তার অবর্তমানে ফেডারেশনে বাতি জ্বালানোর মতে কাউকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়ে শুরুর বছর ভালো ভাবেই দাবাকে কোর্টে রেখেছেন গাজী সাইফুল তারেক। গেলো বছর ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চেয়ে নামকা ওয়াস্তে বিদেশী টূর্ণামেন্টে দল পাঠাতেই বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছেন তিনি। তিনিও ভ্রমন করছেন কুয়েত, আমেরিকা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দলের সঙ্গে। দুই বছর পর গাজী সাইফুল তারেকের অধীনে দাবায় ফিরেছিলো স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক। স্কুল দাবার দীর্ঘদিনের সারথি এই প্রতিষ্ঠান তাদের উদাসহীনতায় আবারও লেজ গুটানোর পথে। শূটিংয়ে নতুন কমিটি আশার পর থেকেই স্থবিরতা নেমে এসছে। নেই কোনো কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে ঘরোয়া আসর গুলোও। শূট্যাররাও স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না নতুন কমিটির অধীনে। টিটি, বক্সিংয়ে দায়িত্বে পরিবর্তন আসলেও ফলাফল সেই আগের মতোই। উন্নতি নেই  কারাতে, সাইক্লিং, আরচ্যারিতে। এদের মতোই লেজে গোবরে অবস্থা ফেডারেশনের মাাদর সংগঠন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের। দায়িত্ব নিয়ে অচল বাংলাদেশ গেমসকে সচল করে আশা দেখিয়েছিলেন বিওএ’র নতুন মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। তবে দিন যতো গড়াচ্ছে ততই সকলের অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন কুয়েতের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। শুরুতে তাকে যতটা ক্রীড়াবাদ্ধব মনে হয়েছিলো আস্তে আস্তে সেটাও ভুল প্রমানিত হচ্ছে। তার ইচ্ছার কারনে হাইপ্রোফাইল ট্রেনিং থেকে বাদ পরেছে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো ডিসিপ্লিন। একমাত্র তার কারনে সকল প্রস্তুতির পরও হাইপ্রোফাইল ট্রেনিং বার বার পিছিয়েছে। কাউকে তিনি কিছুই বলতে দিচ্ছেন। আবারও সমালোচনাও হজম করতে পারেন না। দায়িত্ব নেয়ার বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বিওএ’র বর্তমান কমিটিকে দুটি ধারায় বিভক্ত করে ফেলেছেন সৈয়দ শাহেদ রেজা। তিনি নেতৃত্বে রয়েছেন ফোরাম থেকে উঠে আশা কয়েকজন সংগঠকের। তারাই শাহেদ রেজাকে ভুল পথে ধাবিত করছেন।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর