১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ

মার্চ ২৫, ২০১৪ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

15239ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ১৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বালাদেশ।এর আগে নিজেদের ইনিংসে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭১ রান।

সন্ধ্যায় টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নেমে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা হয় চমৎকার। ৯৭ রান পর্যন্ত ওপেনিং জুটি অবিচ্ছিন্ন থাকে।

ওপেনিং জুটির ৯৭ রানে ভর দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ সাত উইকেটে ১৭১ রান। আগের দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ গিবসন বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্পিন ভারতের মানের নয়। চারজন স্পিনারের ১২ ওভার থেকে ৯৮ রান নিয়ে কোচের কথা বাস্তবে রূপ দিতে চেষ্টা করেছে ব্যাটসম্যানরা। সেটা শতভাগ সম্ভব হয়নি। সাকিব, মাহমুদুল্লাহ, গাজী, সাব্বিররা যে কম নন, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

গেইল ক্রিজে আছেন এই আতঙ্কটা ধরে রাখতে চেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাতে সফলও হয়েছে। গেইল বল কম খেলে একপ্রান্ত ধরে রাখলেন। তেড়েফুঁড়ে কমই মারলেন গেইল। তবে ফিল্ডাররা চারটি ক্যাচ মিস না করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ১৭১ হতে পারত কি না সন্দেহ ছিল।

ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ভুলগুলো মনে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার। এ কারণে স্কোরবোর্ডে সাত ওভারে ৪৪ বিনা উইকেটে। গেইল ১৬ বলে ছয় রান আর স্মিথ ২৫ বলে ৩২ রান।

মিরপুরের উইকেটে গেইল আর অপর প্রান্তে স্পিনার সোহাগ গাজী ছাড়া যেন বেমানান। তাই তো গাজীকে একাদশে আনা হলো। আর গেইল সেই গাজীর ডেলিভারে একাধিকবার মিস করেছেন। ২৫ বলে ১৭ রানে থাকা গেইলকে রান আউটের সুযোগটা মিস হয়ে গেল। ধীরে ধীরে নিজের আসল রূপটা দেখাতে শুরু কবেন গেইল। চড়াও হয়ে উঠবেন স্পিনারদের ওপর।

ম্যাচের ১৫ ওভারশেষ হয়ে গেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না গেইলকে। অপর ওপেনার স্মিথের চেয়ে অনেক পেছনে ছিলেন গেইল। ৩৩ বলে ৪০ মিনিটে আট চার ও এক ছয় দিয়ে ৩য় টি-২০ ফিফটি পেয়ে গেলেন ওপেনার স্মিথ। ১০ ওভারে সংগ্রহ বিনা উইকেটে ৭৪ রান। আর চার ওভারের কোটা শেষ করে ততক্ষণে সোহাগ গাজী ৩৮ রান দিয়ে ফেলেছেন। ধীরে ধীরে বড় স্কোরের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে ইনজুরি থেকে ফিরে বল হাতে মাশরাফি উইকেট না পেলেও চার ওভারে ২৫ রানের বেশি দিলেন না। এভারেজ বোলিং-র চেয়ে ভালো করেছেন মাশরাফি।

উইকেট নেই! এই হাহাকার মিটিয়ে দিলেন স্পিনার মাহমুদুল্লাহ। ১১.৫ ওভারে স্মিথ ৭২ রানে আর দলের সংগ্রহ ৯৭। মাহমুদুল্লাহর ডেলিভারি তুলে মারলেন। মাথার ওপরে উঠে যাওয়া বল এনামুল সহজেই জমা করলেন হাতে। পরের ওভারের প্রথম বলে আবারো উইকেট! সাকিবের ডেলিভারি মিস করলেন সিমন্স। দুই উইকেটে ৯৮। কিন্তু কোথায় টি-২০ মাস্টার গেইল!

১৫ ওভার শেষে দলীয় রান দুই উইকেটে ১১৬। মাত্র ক্রিজে আসা স্যামুয়েলস পাঁচ বলে তিন রান। অথচ ৩৫ বলে গেইল নামের তান্ডব করেছেন মাত্র ২৫ রান! বট্ট বেমানান লাগছিল। তৃতীয় জুটিতে গেইল আর সিমন্স ৫৩ রান যোগ করলেন বাংলাদেশের একাধিক মিস ফিল্ডিংয়ের কল্যানে। গেইল যে শেষদিকে মার শুরু করবেন সেটা পরিষ্কার। সাকিবের ওভারে চার-ছয় দিয়ে শুরু করলেন।

দলের ১৫১ রানে গেইলকে কঠিন এক ক্যাচে পরিণত করলেন দলে আসা তামিম। লংঅনে গেইল বিশাল ছয় হাঁকালেন। সীমানার ওপর দাঁড়ানো তামিম হাতে বল নিয়ে পেছনে দিকে পড়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বল সীমানার ভেতরে উপরে তুলে দিয়ে তামিম সীমানার বাইরে পা দিয়ে ভারসাম্য ধরে আবার ভেতরে ঢুকে বল হাতে নিলেন। সাজঘরে ফেরত গেলেন গেইল।

দলের ১৫২ রানে জিয়া রান আউট মিস করলেন নিজের বলেই। আর ৪র্থ ব্যাটসম্যান হিসাবে ক্রিজে নামা স্যামী ক্যাচ দিলেন জিয়ার বলে। কিন্তু শূন্য রানে থাকা স্যামীর রিয়াদ হাতে নিয়েও ফেলে দিলেন।২০তম ওভারের প্রথম বলে স্যামুয়েলস ১৮ রানে ক্যাচ দিলেন আল আমিনের বলে সোহাগের হাতে। চার উইকেট পতন। পরের বলে আবারও ক্যাচ। ৫ম ব্যাটসম্যান রাসেল সাকিবের হাতে ক্যাচে পরিণত হলেন শূন্য রানে। হ্যাট্রিকের সুযোগ আল আমিনের। হলো না। ৬ষ্ঠ জুটি রান বাড়াতে ব্যস্ত। কিন্তু আল আমিনের বলে ব্রাভোর স্লিপে তামিম উড়ন্ত ক্যাচ হাতে নিলেন। শেষ বলেও ক্যাচ জিয়ার হাত ছুঁয়ে গেল। মিস হলেও তিন রান দিতে গিয়ে রান আউট হলেন রামদিন। ২০ ওভারের কোটা শেষ হলো ছয় উইকেটে ১৭০ রানে। স্যামী ১৪ রানে অপরাজিত।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর