অবিশ্বাস্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় হারে বিদায়ের পথে অস্ট্রেলিয়া

মার্চ ২৯, ২০১৪ ৪:১৭ অপরাহ্ণ

শেষ ১২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ৩১। তখনই জায়ান্ট স্ক্রিনে বারবার ভেসে আসছিল ক্রিস গেইলের মলিন মুখ। যিনি অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ১৭৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে খেলেছেন ৩৫ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। গেইলের সেই মলিন মুখেই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে হাসি ফোটালেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি, অবিশ্বাস এক ম্যাচ জিতিয়ে। তারপর মাঠের ভেতরে এসে গেইলরা মেতে উঠলেন গ্যাংনাম নৃত্যে। উত্তেজনা চরমে উঠে গিয়েছিল বলেই হয়তো খুশির মাত্রাটা একটু বেশিই দেখা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের মধ্যে। নাটকীয় ম্যাচে শেষ দশ বলে ৩১ রান করেই দলকে জেতানো স্যামিও কম গেলেন না। শেষ ছক্কা মেরে তিনিও ছুটলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। এতেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে থাকলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। আর পাকিস্তানের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফেরার পথেই হাঁটলো অসিরা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্রিস গেইলের সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরিটি ছিল প্রায় দু’বছর আগে, শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে ৪১ বলে ৭৫ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন গেইল। এরপর ছোট ফরমেটের ক্রিকেটে দশটি ম্যাচ খেলে ফেললেও কোথায় জানি তালগোল পাকিয়ে ফেলছিলেন তিনি। ৩৩ বলে ৩৪ আর ৪৮ বলে ৪৮ করা গেইল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কেমন যেন অচেনা মনে হচ্ছিল। গতকাল মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বলেই হয়তো অচেনা গেইলকেই চেনা মনে হলো। দেখা মিলল সেই রুদ্রমূর্তি গেইলের। অস্ট্রেলিয়ার করা ১৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩১ বলে ৬টি চার ও ২ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। তবে এরপর আর বেশি দূর যেতে পারেননি গেইল, ৫৩ রান করেই বিদায় নিয়েছেন জেমস মুইরিহেডের বলে। এরপর অসিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মনে হচ্ছিল বিশ্বাকপ থেকে ছিটকে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বিশেষ করে ১১ ওভারে ১০০ করার পরই কেমন জানি ঝিমিয়ে পড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। ১২তম ওভারে থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত দুই উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয়রা সংগ্রহ করে মাত্র ৩৬ রান। এতেই শেষ তিন ওভারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন ৪২ রান। ঠিক ওই সময়ে ১৮তম ওভার করতে এসে মাত্র ১১ রান দেন ফকনার। তবে ১৯তম ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েদেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। স্ট্রার্কের করা ওই ওভারে ১৯ রান সংগ্রহ করেন ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুরোদমে প্রতিষ্ঠা করেন। শেষ ওভারের প্রথম দুই বল কোন রান না দিয়ে অসিদের ম্যাচের ফেরান ফকনার। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ বল দুটি ছক্কায় পরিণত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন স্যামি। মাত্র ১৩ বলে তিন ছয় আর দুই চারে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন স্যাসি, ১২ বলে ব্রাভো করেন ২৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক দুটি, বলিঞ্চার ও মুইরিহেড একটি করে উইকেট দখল করেন।
এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অসি অধিনায়ক জর্জ বেইলী। তার সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ দিতে বেশি সময় নেননি দুই ওপেনার আরন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ফিঞ্চের (১৬) বিদায়ের আগে ৩.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে জমা করেন ৩৩ রান। দলীয় ৪১ রানে ২০ রান করে ফেরেন অপর ওপেনার ওয়ার্নার। পরের ওভারেই শেন ওয়াটসনকে ফেরান সুনীল নারাইন। এরপরই শুরু করেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দারুণ খেলা ম্যাক্সওয়েল। এদিনও চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক বেইলীকে সঙ্গে নিয়ে ৩৬ রানের জুটি গড়েন তিনি।
৭৭ রানে বেইলী (১২) বিদায় নিলেও ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গ দিতে থাকেন ব্যাড হজ। এরা দু’জন পঞ্চম উইকেটে জুটিতে মাত্র দুই ওভারে ২৩ রান সংগ্রহ করেন। দুই জুটির ৫৯ রানের মধ্যে ম্যাক্সওয়েলের ব্যাট থেকেই আসে ৪৫। পাকিস্তান ম্যাচে ৭৪ রান করা ম্যাক্সওয়েল এই রান করতে খরচ করেন মাত্র ২২টি বল। যার মধ্যে ছিল তিনটি ছয় ও পাঁচটি চার। সেই সঙ্গে জেমস ফকনারের ১৩ ও ব্র্যাড হাডিনের ১৫ রানের ইনিংসগুলোর সুবাদে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান জমা করে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে রাজত্ব করেছেন স্পিনাররাই। দুটি করে উইকেট গেছে মারলন স্যামুয়েলস, স্যামুয়েল বদ্রি ও সুনীল নারাইনের ঝুলিতে।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর