হাফিজের ওপর রাজ্জাকের ক্ষোভ

এপ্রিল ৪, ২০১৪ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো সেমির লড়াইয়ে খেলা হলো না পাকিস্তানের। এই ফরম্যাটের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সুপার টেনের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে করেছে অসহায় আত্মসমর্পণ। ওই ম্যাচে নিজ দলের বিপর্যয়কর ব্যাটিং প্রদর্শনীকে অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ যতই ‘বাজে দিনের ব্যর্থতা’, ‘ক্রিকেটে এমন হতেই পারে’ ইত্যাদি বলে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, পাকিস্তানে এ নিয়ে চলছে বিস্তর সমালোচনা। একই সঙ্গে, সচরাচর পাকিস্তানে যা হয়, শুরু হয়ে গেছে সেই পরস্পরকে দোষারোপের খেলা। অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক তো সরাসরি এই ব্যর্থতার পুরো দায়ভার চাপিয়েছেন খোদ অধিনায়কের ওপরই। বলেছেন, ‘হাফিজের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বলি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট।’  রাজ্জাকের মতে, ‘পাকিস্তান দল নির্বাচনের ব্যাপারটা হাফিজের নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই অমার্জনীয় ব্যর্থতার দায়ভার তাই পুরোপুরিই হাফিজের।’  দেরি না করে এই ব্যর্থতার দায় ঘাড়ে নিয়ে হাফিজকে এখনই দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রাজ্জাক, ‘হাফিজকে অবশ্যই অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি ম্যাচেই পাকিস্তান দলের অধিনায়কের পছন্দ অনুযায়ী একাদশ বাছাই করা হয়। অনেক সময় যোগ্য খেলোয়াড়েরা দল থেকে বাদ পড়ে যায় শুধু হাফিজ তাদের পছন্দ করে না—এই বিচারে।’  বড় মঞ্চে অধিনায়ক হিসেবে চাপ সামাল দেওয়ার যোগ্যতা হাফিজের নেই বলেই মনে করেন রাজ্জাক, ‘ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে হাফিজ চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ যোগ্যতা, যেটা হাফিজের নেই।’  ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই মূলত হাফিজ-রাজ্জাক সম্পর্কের অবনতি হয়। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রাজ্জাকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তান জিতলেও সেমিফাইনালে ডাগ আউটে বসে ছিলেন এই অলরাউন্ডার। সেমিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তান হেরে গেলে রাজ্জাক হাফিজের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগের তির ছুড়ে দিয়েছিলেন।  রাজ্জাকের অভিযোগ ছিল, সম্পূর্ণ ফিট থাকা অবস্থায়ও তাঁকে সেমিফাইনালের একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হাফিজ এই অভিযোগ অস্বীকার করলে পিসিবি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করে।  অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই হাফিজের বিপক্ষে তাঁর এই অভিযোগ বলে জানিয়েছেন রাজ্জাক। ওপরের মহলের সঙ্গে দহররম-মহররমের ফলেই হাফিজ পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হতে পেরেছেন বলে মনে করেন রাজ্জাক, ‘সে তো পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটেও অধিনায়কত্বের সুযোগ পায় না। জাকা আশরাফের সঙ্গে তাঁর দারুণ সম্পর্ক। মূলত আশরাফই রাজ্জাককে এই সুযোগ করে দিয়েছেন। বোর্ডের সাবেক এই প্রধানই প্রথমে হাফিজকে লাহোর লায়ন্সের অধিনায়ক করতে চেয়েছিলেন। অথচ হাফিজ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে ফয়সালাবাদের হয়ে। ফয়সালাবাদের অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহ-উল-হকের স্থানটা পাকাপোক্ত হওয়ায় তাঁকে সরাসরি পাকিস্তানেরই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক করে দেওয়া হয়।’  পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ টেস্ট, ২৬৫ ওয়ানডে আর ৩২টি টি-টোয়েন্টি খেলা রাজ্জাককে এখনো পাকিস্তানের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ তিনি অনেক দিন ধরেই পাকিস্তান দলের বাইরে। এ জন্য অবশ্য রাজ্জাক দায়ী করেন জাকা আশরাফকেই, ‘জাকা আশরাফের সময়ই আমি সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়ি।’  পাকিস্তান এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেবলমাত্র নেতৃত্বের কারণেই ব্যর্থ বলে মনে করেন রাজ্জাক, ‘এই দলে ভালো খেলোয়াড় অনেকেই আছে। অনেকেই আছে, যারা এই ফরম্যাটে ম্যাচ উইনার ধরনের খেলোয়াড়। কিন্তু কেবলমাত্র যোগ্য অধিনায়কত্বের অভাবেই তাদের মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। পুরো বিশ্বকাপে পাকিস্তানের খেলাগুলোতে আমার কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়েনি।

Share on Facebook
This site demo ॥ Content Copy Paste॥ Playing News
News Desk
E-maill ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর