ক্রীড়াঙ্গনে মিশ্র নির্বাচনী আমেজ

জানুয়ারি ৫, ২০১৪ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

রাজনৈতিক নানা অস্থিরতার মাঝেও সরকার বদ্ধপরিকর ছিলেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে। নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে সম্পন্ন হলো জাতীয় নির্বাচন। রোববার সারাদেশে সহিংস কিছু ঘটনার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসরের মধ্যে ১৫৩ টিতে প্রার্থীরা নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হলে রোববার ১৪৭ টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বীকৃত রাজনীতিবিদদের মতো ক্রীড়াঙ্গনেরও ১১ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক এই নির্বাচনে অংশ নেন। যার মধ্যে চার জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আগেই। এরা হলেন, আইসিসির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল, বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ও বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ। তবে জাতীয় নির্বাচন ক্রীড়াঙ্গনে তেমন স্বতস্ফূর্ততা আনতে পারেনি। রোববার নির্বাচনের দিন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মাঝে ছিল না কোনো  উৎসাহ-উদ্দীপনা। বিরোধীদলের জোটের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অনেকেই নির্বাচন বর্জন করেছেন। কারো বা ভোট দেয়ার আগ্রহ থাকলেও দিতে পারেননি। কেননা সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচন হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়ে গেছেন অর্ধেকেরও বেশী প্রার্থী। জাতীয় নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের কে কোথায় ভোট দিয়েছেন তা জানতে বেশ ক’জন সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং সংগঠকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। কারণ সব দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন নয়। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করাই বৃথা।

ঢাকা-৭ আসনের ভোটার জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হোসেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ হাজী সেলিম। জাহিদ ঘর থেকেই বের হননি। সারাদিন শুয়ে বসে কাটিয়েছেন। মোবাইলে আলাপকালে জাহিদ বলেন,’ ভোট দিয়ে কি হবে? আমরা খেলার মানুষ খেলতে চাই, মাঠে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের খেলাই তো নেই।’ হকির আরেক সাবেক তারকা কিসমতও জাহিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ভোটের দিন। একই রকম বক্তব্য দিলেন জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ফরোয়ার্ড জাহিদ হাসান এমিলি। পিরোজপুরে গ্রামের বাড়ির ভোটার এমিলি। কিন্তু তিনি ভোট দিতে যাননি। ভোটের প্রসঙ্গ উঠতেই এমিলির অভিমানী সুর,’ভোট দিতে যাব না আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এই মুহূর্তে ভোটের চেয়ে লিগ আমার কাছে বড়। খেলা ফেলে পিরোজপুরে ভোট দিতে যাবার কোনো মানেই হয় না।’ এমিলির মতোই নির্বাচনকে দেখছেন আবাহনীর ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল। তিনিও ব্যস্ত প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে। নারায়নগঞ্জ-৫ আসরের ভোটার ওয়ালী ফয়সাল বলেন,‘সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক। এর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কে ভাববে। সবাই সবার পরিবার পরিজন নিয়ে চিন্তিত। রাজনীতি নিয়ে হয়তো কেউই এখন ভাবছেন না। আর আমি ভোট দেবো কিভাবে? আমার আসনের প্রার্থীতো আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন।’ ঢাকা-১১ আসনের ভোটার সাবেক তারকা ফুটবলার আলফাজ আহমেদও ভোট কেন্দ্রে যাননি। ভোট দেয়া হয়নি টেবিল টেনিস তারকা সোমার। ধানমন্ডির ভোটার সোমার ভোট দেয়ার খুব আগ্রহ ছিল। কিন্তু ওই আসনে ভোট হয়নি।

পাবনায় ভোটার তারকা শ্যূটার আসিফ হোসেন খান। কিন্তু তিনিও যাননি ঢাকা ছেড়ে। সাভার বিকেএসপিতেই কাটিয়েছেন সারাদিন। শ্যূটার আরমিন আশা এবারই প্রথম ভোটার হয়েছিলেন। ইচ্ছে ছিল তার ভোট দেয়ার। কিন্তু নারায়নগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় আরমিন আশার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। এই আসনে ভোটার ছিলেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহ। তার দশাও আরমিনের মতোই। ঝালকাঠি-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান। কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের নির্দেশে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন কুদ্দুস। সেজন্য ভোট দিতেও যাওয়া হয়নি তার। নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের কথা, ’ খারাপ লাগছেন যে,আমি ভোট দিতে পারি নাই। আমি ঢাকার ভোটার। নির্বাচনের আগেই আমার আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ’দয়া করে আমাকে রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন করবেন না। রাজনীতির মাঠে রাজনীতিবিদরা কাজ করবেন আমরা ক্রিকেটাররা ক্রিকেটের মাঠে কাজ করবো।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর