উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত ফুটবলার যাদুকর সামাদের ৫০তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৪ ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

উপ মহাদেশের ফুটবল জগতের কিংবাদন্তী ফুটবল যাদুকর সামাদ। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে অপুর্ব ক্রীড়া শৈলীর প্রদর্শন করে ফুটবল জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ক্রীড়াবিদ ১৯৬৪ সালের ২ ফেব্র“য়ারী পার্বতীপুরে মৃত্যু বরন করেন। আজ রবিবার তার ৫০তম মৃত্যু বর্ষিকী। তার বসবাসকৃত রেলের বাসা সহ বেশকিছু স্মৃতি চিহ্ন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তার স্মৃতি চিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ফুটবল যাদুকর সামাদকে বলা হয় কিংবাদন্তী মহানায়ক, যাদুকর উপাধি যাদু বিদ্যা জানার জন্য নয়, ফুটবল খেলার অপুর্ব দক্ষতা এবং উন্নতমানের ক্রীড়া কৌশল প্রদর্শনের জন্যই তার এ যাদুকর উপাধি।
১৯১৫ সাল থেকে ১৯৩৮ সাল এই ২৩ বছর ছিল সামাদের খেলোয়াড়ী জীবন। তিনি ছিলেন একজন রেল কর্মচারী। সে সময় ইবিআর নামে যে, রেলওয়ে ফুটবল টিম ছিল সামাদ তাতে সত্রি“য়ভাবে জড়িত ছিলেন। সেই কারনে ইবিআর এ সামাদ নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। সামাদের ২৩ বছর খেলোয়াড়ী জীবনে এমন সব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে যা খেলার জগতে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। দেশে এবং দেশের বাহিরেও তার অভিনব খেলা দেখে মানুষ হতবাক হয়েছে। তার যাদুকরী ক্রীড়া কৌশল দেখে দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়েছে। করতালী দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে।
একবার খেলার পূর্ব মহূর্তে মাঠের চারিদিকে পায়চারী করে এসে সামাদ ক্রীড়া কমিটির নিকট অভিযোগ করলেন এ মাঠ আন্তর্জাতিক মাপ হিসেবে ছোট আছে বিধায় এ মাঠে  আমাদের টিম খেলতে পারে না। পরে মাঠ মাপার পর তার অভিযোগ সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। আরেকবার মাঠের মধ্যস্থল থেকে বল নিয়ে সব খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল ড্রিবলিং করে নিক্ষেপ করলেন গোলে, বল গোলে প্রবেশ না করে গোল পোষ্টের কয়েক ইঞ্চি উপর দিয়ে বাহিরে চলে গেলে রেফারী বাঁশী বাজিয়ে বলকে আউট ঘোষনা করলেন। কিন্ত সামাদ তা গোল হয়েছে বলে চ্যালেঞ্জ করলেন। আমার শটে নিশ্চিত গোল হয়েছে। সামাদের শটের মেজারমেন্ট কোন দিন ভুল হয় নাই।গোল পোষ্ট উচ্চতায় ছোট আছে। মেপে দেখা গেল সত্যিই তাই। তার খেলোয়াড়ী জীবনের এমন বহু ঘটনা আজও দেশ বিদেশের ক্রীড়াংগনে অগনিত সামাদ ভক্তের মুখে মুখে। যাদুকর সামাদ ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে চলে আসেন ও বসবাস করতে শুরু করেন দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে। রেলওয়ে জংশনের জন্য খ্যাত বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের বৃহৎ রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুরে ফুটবল যাদুকর সামাদ ছিলেন।
যদিও রেলওয়ের কোন প্লাটফরম ইন্সপেক্টর পদ নেই তবুও যাদুকর সামাদের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এই পদ সৃষ্টি করেছিলেন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পার্বতীপুর জংশনে প্লাটফরম ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি রেলওয়ে সাহেব পাড়া কলোনীতে টি-১৪৭ নম্বর বাসায় থাকতেন এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্য়ন্ত তিনি এই বাসাতেই ছিলেন। ভারত বর্ষের বিহার এলাকার পুর্নিয়ায় ফুটবল যাদুকর সামাদের জন্ম হয়।তার পুরো নাম সৈয়দ আব্দুস সামাদ। তিনি ১৯৬৪ সালে ২ ফেব্র“য়ারী পার্বতীপুরে মৃত্যু বরন করেন। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়। আজ আমারা বিদেশী খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্ব  করে তাদের ছবি গায়ের জামায় ছাপিয়ে ঘুরে বেড়াই। শোনা যায়, ফুটবল যাদুকর সামাদ এর সোনার মুর্তি বিট্রিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। আমরা বিশ্ব নন্দিত ফুটবল যাদুকর সামাদকে কতটুকু মূল্যায়ন করছি। পার্বতীপুরে রেলওয়ের নির্মিত একটি মিলানায়তন আছে। যা ফুটবল যাদুকর সামাদের নামে রাখা হয়েছে, সামাদ মিলানায়তন। যদি আমরা নিম্ন শ্রেনীর পাঠ্যপুস্তুকে সামাদের ছবি সহ জীবনী তুলে ধরি তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে ফুটবল যাদুকর সামাদ এর নাম চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। পার্বতীপুর শহরের ইসলামপুর কবর স্থানে সমাহিত করার দীর্ঘ ২৫ বছর অবহেলিত অরক্ষিত থাকার পর ১৯৮৯ সালে ৫২ হাজার টাকা খরচ করে নির্মান করা হয় স্মৃতি সৌধ।  এখনো এখানে রয়েছে সামাদ রেলওয়ে মিলনায়তন যা ১৯৪৯ সালে ফুটবল যাদুকর সামাদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল। রয়েছে তার বসবাসকৃত রেলের বাসা সহ বেশকিছু স্মৃতি চিহ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তার স্মৃতি চিহ্নগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর