ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩০২

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

লঙ্কানদের জন্য চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বেশ ভালো ছিল। যা বলার উপায় নেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা ছিল ঘটনাবহুল। মাঠে আর মাঠের বাইরে যা কিছু ঘটেছে তা শ্রীলঙ্কার জন্য ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচকই বলা যায়। কারণ ৫৮৭ রানের টার্গেটে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার তামিম ইকবাল বোল্ড আউট! স্কোর বোর্ডে ০ রানের সঙ্গে ১ উইকেট! আর সকালে মুশফিক ও স্পিনার রাজ্জাক হাতের ব্যথার জন্য মাঠে নামতে পারলেন না। শামসুর রহমান মুশফিকের বদলে কিপিং করেছেন।

দুই অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে পেসার রুবেল আর মার্শাল মাঠে নামেন। বাংলাদেশের ওপেনার শামসুর রহমান আর ইমরুল কায়েস জুটি শেষ অবদি ৮৬ পর্যন্ত টেনে নিলেন। ৫০১ রান পেছনে আছে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয়বার লঙ্কাকে ক্রিজের পথ দেখাতে হলে মুশফিকদের আরো ৩০২ রান স্কোর বোর্ডে জমা করতে হবে। শামসুর রহমান ৪৫ আর ইমরুল ৩৬ রানে ব্যাট করছেন।

আগের দিন ৫ উইকেটে শ্রীলঙ্কা ৩১৪ রান নিয়ে হোটেলে ফেরে। সাঙ্গাকারার সঙ্গী ভিথানাগে শূন্য রানে ছিলেন। সকালে সাঙ্গাকারার মনোযোগ নষ্ট করা সম্ভব না হলেও ভিথানাগে ৩৫ রানে নাসির এলবি’র ফাঁদে ফেলেন। এরপর সবই সাকিবের পকেটে জমা হয়েছে। কিন্তু তাতে কি আসল কাজ তো সাঙ্গাকারা করে দিয়েছেন। অলআউট হবার আগে ৫৮৭ রান অনেক। আগের দিন ৩১৪ থেকে ৫৮৭ রান, দ্বিতীয় দিনে ৫ উইকেটে ২৭৩ রান জমা হয়েছে। আর ১৬০ রান থেকে ৩১৯ রান পর্যন্ত গিয়ে ক্যাচ আউট হবার আগে দ্বিতীয় দিনে সাঙ্গাকারার ব্যাট থেকে আসে ১৫৯ রান!

বাংলাদেশের মাটিতে এটাই সাঙ্গাকারার সেরা ইনিংস এবং প্রথমবার বাংলাদেশের মাটিতে ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে যদি হিসাব করা হয় তাহলে সাঙ্গাকারার ৯ ডাবল সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটি বাংলাদেশের বিপক্ষে। সাঙ্গাকারার এই কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশ শিবিরে বলার মতো ছিল সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ারে ১১ বার ৫ উইকেট শিকার। টেস্টে সাকিব ১২১ উইকেটের মালিক হলেন। যার মধ্যে ৩৮টি চট্টগ্রামের উইকেটে।

পেরেরাকে এক রানে আর মেন্ডিসকে ৪৭ রানে এলবি’র ফাঁদে ফেলেন সাকিব। কিন্তু সাঙ্গাকারাকে কোনোভাবেই বশ করা সম্ভব হচ্ছিল না। লাঞ্চের আগে সাত উইকেটে স্কোর ৪০৫। তখন ৮ম জুটিতে সাঙ্গার সঙ্গী মেন্ডিস। এই জুটিই মুলত লঙ্কাকে ৫০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। যোগ করে ১০০ রান। ৮ম উইকেটে মেন্ডিসকে ফেরানের পর লাকমালকে সাকিব শূন্য রানে ফেরান। ততোক্ষণে স্কোর ৫৩৩। ৫৮৭ রানে যাবার আগেই ছক্কা মেরে সাঙ্গা ট্রিপল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। আর পরে আবার সেই ছক্কা মারতে গিয়ে নাসিরের বলে ক্যাচ দিলেন সোহাগের হাতে। শেষ হয়ে যায় লঙ্কান ম্যারাথন ইনিংস।

শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল যা করলেন তাতে তার ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে মিরপুরে যা করেছিলেন এবারও তাই করলেন। ফলাফল বোল্ড! মেনে নেয়াটা সত্যিই কঠিন। এরপর তো শামসুর রহমান আর ইমরুল কায়েস জুটি দেখে-শুনে খেলে দিন শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এবং শেষ অবদি তা করেছেনও। কিন্তু দলের ৭৮ রানের মাথায় মেন্ডিসের বলে ইমরুল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিলেন। ইমরুল তখন ৩২ রানে আর ৪১ রানে শামমুর। ফিল্ডার নুয়ান প্রদীপ হাতের ফাঁক গলে বল মাটিতে আছড়ে পড়লে বাংলাদেশ শিবির আরো একটি ধাক্কা থেকে বেঁচে যায়।

এরপর আর ভুল করেনি এ জুটি। ৮৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশে প্রথম ইনিংসের প্রথম ও ম্যাচের দ্বিতীয় দিন। বৃহস্পতিবার ম্যাচের তৃতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ এদিনটা পেরুতে পারলেই বাংলাদেশ এই টেস্টে হার এড়ানোর একটা মঞ্চ তৈরি করতে পারবে।

Share on Facebook
সম্পাদক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ॥ মোঃ দেলোয়ার হুসেন শরীফ, সম্পাদক ॥ আনোয়ার হোসেন
উপজেলা মোড়, টেনিস কোর্ট রোড, ৫৯ মাষ্টার বাড়ি, ঢাকা।
সংবাদঃ ০১৭১১৩২৪৬৬০ বিজ্ঞাপনঃ ০১৯১১২৪৫৬১৬
ই-মেইল ॥ news@playingnews.com
খেলা পাগল মানুষদের কথা চিন্তা করেই দেশী-বিদেশী সকল ...
খেলাধূলার খবর